ই-পেপার মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০২৪
শিরোনাম: ভৈরবে কোটা আন্দোলনকারী ও র‌্যাব-পুলিশের সংঘর্ষ, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ        বিহারে বিদ‍্যুতের তারে তাজিয়া, বিদ‍্যুৎস্পৃষ্ট ২৪       ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ চলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ        পাটের সোনালী আঁশে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা        ঢাকাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন       কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জাতিসংঘের উদ্বেগ       গ্রাম আদালতের বিচারের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে, কমছে হয়রানী-জটিলতা      




২৪ ঘণ্টা নজরদারি: দুদকের অনুসন্ধানে ২ হাজার ২১৫ ফাইল
পুলিশের উচ্চপদস্থ ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
ভোরের ডাক রিপোর্ট:
Published : Tuesday, 9 July, 2024 at 5:50 PM
দেশের পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আতঙ্ক। পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের মতো ব্যক্তিকে সংস্থাটি আইনের জালে আটকে ফেলা হয়েছে। এর পরপরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতিপ্রবণ এই সেক্টরটিতে। অনেকে বিনা অপরাধে গ্রেফতার, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। মিথ্যা মামলায় আসামি করে অর্থ আদায় করেছেন অনেক পুলিশ কর্মকর্তা। মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে দিয়ে করা হয়েছে মিথ্যা মামলা। গায়েবি মামলার আসামিও করা হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে। ভুক্তভোগী মানুষের এসব সহ্য করা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধানে রয়েছে ২ হাজার ২১৫টি ফাইল। তাদের মধ্যে অর্ধশত আমলা, সাবেক ও বর্তমান মিলে অন্তত ২০ পুলিশ কর্মকর্তার ফাইল দীর্ঘদিন ধরে আটকা রয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরা বলছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয় কথাবার্তা বা কাগজকলমেই থেকে যাচ্ছে। বাস্তবে দুদক কিংবা সরকার শক্ত অবস্থান না নেয়ায় বেড়েই চলেছে দুর্নীতি। এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণা এক বিষয় আর দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম বাস্তবায়নে পরিবেশ সৃষ্টি করা আরেক বিষয়। 

ক্ষমতাবান ও প্রভাবশালীদের ওপর হাত দেয়া কঠিন; এমন ধারণা পোষণ করে দুদক। এ জন্য আলোচনায় আসা ব্যক্তিদের অনুসন্ধানের আওতায় এনে লম্ফজম্প করে তারা। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায় সরকারকে অবশ্যই নিতে হবে। এখানে সরকারের দায় আছে। কারণ পুলিশ কর্মকর্তারা এককভাবে দুর্নীতি করেননি। সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ এবং সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দু’জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, অবৈধ সম্পদের মালিকানা, স্বর্ণপাচর হোক, পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে কিন্তু আরো অনেক অংশীজন ছিলেন। পরিচালনাকারী ছিলেন। সুরক্ষাকারী আরো অনেকে ছিলেন; তাদের দুর্নীতিরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

দুদক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান সময়ে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ২৪ ঘণ্টাই দুদকের গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। দুর্নীতিবাজদের হাতেনাতে ধরার জন্য নজরদারি ও আকস্মিক সাঁড়াশি অভিযানও চলছে। এ নিয়ে দুর্নীতিবাজদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দুদক আতঙ্ক। কখন কোথায় দুদক হানা দেয় এ ভয়েই অস্থির সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ব্যাংক, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরাও এ আতঙ্কের বাইরে নয়। বিশেষ করে দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে কে কখন ফোন করে কী তথ্য দিয়ে দেয় এ আতঙ্কই কাজ করছে বেশি। পাশাপাশি দুদক কর্মকর্তাদেরও কঠোর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে আসামির সঙ্গে গোপনে আঁতাত করায় এক পরিচালককেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

চলমান দুর্নীতিবিরোধী এসব কার্যক্রমের বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিটি দপ্তর ২৪ ঘণ্টাই আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। হটলাইন হোক বা লিখিত অভিযোগ হোক- দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো অভিযোগই আমরা ছেড়ে দিতে পারি না। আপনারা (গণমাধ্যম) যেটাকে অভিযান বলছেন, আমরা সেটাকে বলছি- কাজ। দুদক যেসব আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে তাতে দেখবেন দায়ীদের গ্রেপ্তার করা হয় না বরং সতর্ক করা হয়। এসব অভিযান নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার আমাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। দুর্নীতি বন্ধে সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে সর্বশক্তিও নিয়োগ করেছে কমিশন। নিয়োগবাণিজ্য, ভর্তিবাণিজ্য, কমিশনবাণিজ্য, ফাইল আটকে রাখা, ঘুষ গ্রহণ ও প্রদানসহ যেখানেই দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যাবে সেখানেই দুদক হাজির হয়ে যাবে।

 দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অভিযোগ পেলেই অনুসন্ধান শুরু করব। দেখব এবং ধরব। দুদকের সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযান নিয়ে সমালোচনা ও নেতিবাচক মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন. কমিশনের প্রতিটি অভিযানই আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে হচ্ছে। কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করতে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক আইন অমান্যকরণ দন্ডনীয় অপরাধ; যা কমিশনের তফসিলভুক্ত অপরাধও। তাই আইন অমান্য করে জনগণের ক্ষতিসাধন কিংবা ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করা হলে আরও কঠোর আইনিব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশের উচ্চপদস্থ ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ দুদকের হাতে রয়েছে। এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব খাটানো, পেশিশক্তি প্রদর্শন, মানি লন্ডারিং, অর্থ পাচার, দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। 

পুলিশ সদরদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), খুলনা, যশোর, বগুড়া জেলা পলিশ সুপার, সিআইডি, পিবিআই, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, পুলিশ হাসপাতাল, শিল্পাঞ্চল পুলিশসহ অন্যান্য শাখার ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত দুই থেকে পাঁচ বছর ধরেই চলছে অনুসন্ধান। ফাইলগুলো বাঁধা রয়েছে লাল ফিতায়। ২০ কর্মকর্তার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ জন এবং বাকি ৫ জন সাবেক। জানতে চাইলে দুদক কমিশনার জহুরুল হক বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্ত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা উচিত। 

এ ব্যাপারে কমিশন চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেন, কমিশনের কার্যকর ভ‚মিকার কারণেই অনুসন্ধান ও তদন্ত কাজ আগের চেয়ে দ্রæত হচ্ছে। পুলিশের ২০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধীরগতির অনুসন্ধানের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান জহুরুল হক।






আরও খবর


সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত।
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]